বন্যা প্লাবিত এলাকায় ত্রাণ, ভ্যাকসিন নিয়ে দলবাজি করার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে,বিক্ষোভ স্থানীয়দের,অভিযোগ অস্বীকার জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের, শুরু তৃণমূল-বিজেপির চাপানউতোর

71 Views

নিজস্বসংবাদদাতাঃবিজেপিকে ভোট দেওয়ায় মিলছে না ত্রাণ।জুটছে না খাওয়ার,পানীয় জল। বিক্ষোভে বানভাসিরা। মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরে ফুলহারের জলে প্লাবিত ৮ টি গ্রাম। প্লাবিত ঘর বাড়ি, জমি। জলের মধ্যে বন্দী প্রায় ৫ হাজার পরিবার। লিখিত ভাবে অভিযোগ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিতে চলেছেন এই ৮ টি গ্রামের জলবন্দি মানুষ। হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের ইসলামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮ টি গ্রাম কাউয়াডোল, উত্তর ও দক্ষিণ ভাকুরিয়া, মিরপাড়া, রশিদপুর,খোপাকাঠি,তাঁতিপাড়া এবং ইসলামপুরে ফুলহারের জল ঢুকে প্লাবিত করেছে। গত পঞ্চায়েত এবং বিধানসভা নির্বাচনে এই সব গ্রামে নাম মাত্র ভোট পায় তৃণমূল। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সেই কারণেই তাঁরা যাবতীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত এমনকি দেওয়া হচ্ছে না ত্রাণ। জুটছে না একটা ত্রিপল। নেই খাওয়ার, নেই পানীয় জল। অনাহারে জলবন্দি হয়ে রয়েছে প্রায় ৫ হাজার পরিবার। সোমবার সকাল থেকেই গ্রামে গ্রামে বিক্ষোভ শুরু করেছে গ্রামবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, বন্যা পরিস্থিতি মালদার বিভিন্ন ব্লকেই। কিন্তু বেছে বেছে ত্রান বিলি করা হচ্ছে। বিজেপিকে ভোট দেওয়ার শাস্তি হিসেবে তাঁদের ত্রান দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি প্রশাসনও এই বিষয়ে মদত দিচ্ছে।তাঁদের আরও অভিযোগ, জলের মধ্যে থেকে অসুস্থ হতে পড়ছে অনেকে। কিন্তু চিকিৎসা করাতে পারছে না।কারণ তাঁদের স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নেই। এমনকি করোনা ভ্যাকসিন থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে তাঁদের। যদিও পুরো ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে তৃণমূল-বিজেপির তরজা।জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব বুলবুল খানের দাবি তৃণমূল সরকারের কাছে সবাই সমান, তৃণমূল এগুলো রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি, যদি এরকম হয়ে থাকে তাহলে আমরা নিজেরা গিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে এলাকা গুলোকে ত্রাণ পৌঁছে দিয়ে আসবো, তৃণমূল সরকারকে বদনাম করার বিজেপি চক্রান্ত করছে। যদিও পাল্টা বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্য কুন্দন মন্ডল কটাক্ষ করে বলেন ত্রাণ,ত্রিপল তৃণমূলের লোক সব লুটপাট করে নিজেরা বিক্রি করে দিচ্ছে, ভ্যাকসিন শুধু তৃণমূলের লোক গুলোই পাচ্ছে, আর এখানকার লোক গুলোকে বিহার যেতে হচ্ছে,পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা দেখে সেখান থেকেও গলা ধাক্কা খেতে হচ্ছে স্থানীয়দের, সব কিছুতে রাজনীতি করছে তৃণমূল।

বিক্ষোভকারী স্থানীয় বাসিন্দা বৃদ্ধা জিতনি মন্ডল বলেন, ” বাড়িঘর সব জায়গায় জল হয়ে গেছে। কিন্তু সরকারের কোনো সাহায্য এসে পৌঁছায়নি। রাস্তায় দিন কাটছে আমাদের। তবুও ত্রিপল পাইনি। ত্রাণও এসে পৌঁছায়নি।”

আরেক বিক্ষোভকারী স্থানীয় বাসিন্দা বিভীষণ মন্ডল বলেন , ” উত্তর ভাকুরিয়া, দক্ষিণ ভাকুরিয়া সহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যা হয়েছে। কিন্তু ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে না । আমাদের মেয়েদের পার্শ্ববর্তী দৌলত নগর হাইস্কুলে ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না। এমনকি ভ্যাকসিন নিতে গেলে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে না। কারন আমরা বিজেপি করি। তাই কোনো সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিনা। এরকম হলে কিভাবে কি করব।”

বিজেপির স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য কুন্দন মন্ডল বলেন,” এই এলাকাটি বিজেপির। তাই তৃণমূল সবকিছুতে দলবাজি করছে। ত্রাণ থেকে শুরু করে ভ্যাকসিন। পঞ্চায়েত থেকে আমার হাতে সঠিকভাবে জিনিস দেওয়া হয়না। তৃণমূলের হয়ে যিনি হেরে গেছেন তাকে ডেকে জিনিস দেওয়া হয়। প্রশাসন মারাত্মক রকম অসহযোগিতা করছে আমাদের সাথে।”

যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল জেলা সাধারণ সম্পাদক বুলবুল খান। তিনি বলেন, ” মমতা ব্যানার্জির সরকার কখনো দল দেখে কাজ করে না। সবাই আমাদের চোখে সমান। ওই এলাকায় গতবার আমরা নিজে দাঁড়িয়ে ত্রাণ দিয়ে এসেছিলাম। এবার ত্রাণ পঞ্চায়েতে পাঠানো হয়েছে। পৌঁছতে তাই হয়তো কিছুটা সময় লাগছে। যে সমস্ত অভিযোগ উঠছে তা মিথ্যে।”

রাজ্যজুড়ে বিরোধীদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির অভিযোগ উঠছে। শুধু রাজনৈতিক সন্ত্রাস নয়, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে ব্রাত্য হচ্ছে বিরোধীরা। এমন অভিযোগই উঠে আসতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় যা একদমই ঠিক নয়। কারণ সরকারের চোখে দল নয়, সকল মানুষ সমান। প্রশাসনের উচিত বন্যাকবলিত এই মানুষগুলোর অভিযোগ খতিয়ে দেখা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!