March 4, 2021

Mansainews

সবার কথা বলে… সংবাদ এখন মুঠোফোনে

রায় সাহেব ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা

96 Views

মানসাইডেস্কঃক্ষত্রিয় আন্দোলনের রুপকার রায় সাহেব ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা ১৮৬৫ সালে, তৎকালিন কোচবিহার রাজ্যের, মাথাভাঙ্গা মহকুমার, খলিসামারী গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। জন্ম সূত্রে তিনি ছিলেন এক স্বাবলম্বি  পরিবারের সন্তান।পিতা খোসাল সরকার চাষবাসের সাথে সাথে মাথাভাঙ্গা মহকুমা কাচারির একজন মোক্তার ছিলেন।জোতদার বাড়িতে তখন পড়াশুনার আবহে বেড়ে ওঠা পঞ্চাননের ছোট থেকেই পড়াশুনার প্রতি জন্ম নেয় ভালোবাসা। এভাবেই বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে, কোচবিহার ভিক্টোরিয়া কলেজ স্নাতক। পরঃ কলকাতার উদ্দ্যেশে রওনা দেন। প্রথমে কলকাতা সরকারি সংস্কৃত কলেজ থেকে সংস্কৃতে এম. এ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৮৯৮ সালে বিএল ডিগ্রি লাভ করেন। এর পর তিনি উচ্চ শিক্ষা শেষ করে ১৯০১ সালে তার পিতার মতো রংপুরে আইন ব্যবসা শুরু করেন।
পঞ্চানন বর্মা পড়াশুনা করার সাথে সাথে বর্ণবাদী হিন্দুদের দৌরাত্ম ও নির্যাতনের শিকার স্থানীয় হিন্দুদের (রাজবংশী) ধর্মীয় ও সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনে ক্ষত্রিয় আন্দোলন শুরু করেন। উওরবঙ্গের রাজবংশী সম্প্রদায়কে ব্রাত্য(পতিত) ক্ষত্রিয় থেকে আর্য জাতি সম্ভুত পৌন্ড্র ক্ষত্রিয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা ছিল এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। উওরবঙ্গের রাজবংশীদের মধ্যে ক্ষত্রিয় আন্দোলনের সূচনা ১৮৯১ সালে হলেও নেতৃত্বের অভাবে সে আন্দোলন যথার্থ রূপ নিতে পারেনি। পঞ্চাননের নেতৃত্বে রংপুরে (বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থিত) প্রতিষ্ঠিত হয় ক্ষত্রিয় সমিতি এবং তিনি তার প্রথম সভাপতি নির্বাচিত হন।এছাড়াও তিনি রাজবংশী ছাত্রদের জন্যে রংপুর জেলা বিদ্যালয়ে ক্ষত্রিয় ছাত্রাবাস ও রাজবংশীদের সাহায্যের জন্য কুড়িগ্রামে (বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থিত ) ক্ষত্রিয় ব্যাংক স্থাপনে তার গুরুত্ব পূর্ণ প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়।অনুন্নত রাজবংশীদের মধ্যে অধিকার সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি ক্ষত্রিয় পত্রিকা নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন। তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং সরকারি চাকরিতে অধিকহারে স্বজাতি নিয়োগের প্রচেষ্টা চালান। তাঁর এই প্রচেষ্টার পতিফলন লক্ষ্য করা যায় রংপুর জেলা আদালতে।যেখানে বহু রাজবংশী আইন পেশায় নিয়োজিত হয় তার অনুপ্রেরনায়।
পঞ্চানন বর্মা তার আইনপেশার পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯২০, ১৯২৩-১৯২৬ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন। নিজ সম্প্রদায়ের উন্নতিকল্পে তাঁর যোগ্য নেতৃত্ব এবং সরকারের কাজে সহযোগিতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘রায় সাহেব’ এবং মেম্বার অফ ব্রিটিশ এম্পায়ার উপাধিতে ভূষিত হন।১৯৩৫ সালে তিনি মারা যান।

error: Content is protected !!